১৭ নভেম্বর, ২০১৪ বেশতো ব্লগে প্রথম প্রকাশিত।

এখানে বেশ খানিকটা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিসিএস এর কোচিং ক্লাশ শেষ করে রাফিন প্লাজার বাইরে এসে ইচ্ছে হল একটু সিড়িতে বসে জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সাথে গল্প করি। ক্লাশ শেষ করে বের হওয়ার পর এটা এখন আমার নিয়মিত কাজই বলতে হবে। গিয়ে দেখি তার বড় ভাই দোকান সামলাচ্ছে। অবশ্য একটু পরই জাহাঙ্গির ভাই হাজির হলেন। পেশায় তিনি সিগারেট বিক্রেতা। সাথে লাইটার সহ ধূমপানের আরো অন্যান্য অনুষঙ্গিক দ্রব্যও বিক্রি করেন।

আজকে দেখি এক ছেলে এসে “সিগারেট পেপার” চাইছে। আমি ধূমপান না করলেও এ সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই জানি। কিন্তু সিগারেট পেপার শব্দটা আমার কাছে নতুন লাগল। তাই জানতে চাইলাম বিষয়টা কি? তিনি যা বললেন তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায়, “এটা নিয়ে বেশীর ভাগ মানুষ গাজা বানিয়ে খায়। অন্যরা একটু করা তামাক পাতা মিশিয়ে খায়। সিগারেট খুলে বের করে আবার ঢুকানো ঝামেলার কাজ, তাই এটা ব্যবহার করা হয়।” শুনে একটু আহত হলাম। ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে সবাই আমরা বুঝি, এর পরও ধূমপানের প্রতি আমাদের আসক্তি বাড়ছেই। আমাদের বোধ বলতে কি কিছু নেই?

তিনি একসময় হাসি মুখেই বললেন, “এখনতো আমাদের ব্যবসা আরও ভাল। মেয়েরাও সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে। আমাদের এখানে এসে মেয়েরা ওপেন সিগারেট কিনছে; নিজেরা কিনছে, বয়ফ্রেন্ডকে কিনে দিচ্ছে। আমাদের এখানেই ওপেন সিগারেট ধরিয়ে টানতে টানতে চলে যাচ্ছে।”

মেয়েদের সিগারেট খাওয়ার বিষয়টা আমি নিজেও লক্ষ্য করেছি। সত্যি বলতে কি ছেলেদের সিগারেট খাওয়াটাই আমার কাছে চির অসহ্য। ধূমপায়ীদের আমি সব সময়ই ঘৃণার চোখে দেখি এবং যত বড় ব্যক্তিই হোক না কেন, আমার সামনে ধূমপান করার চেষ্টা করলে নিজের মুখের ভাব দিয়ে তাকে আমার মনভাব বুঝিয়ে দিতে কুণ্ঠা করি না। এই মনোভাব যে অবশ্যই বিরক্তির তাকে কোন সন্দেহ নেই। তার উপর মেয়েদের সিগারেট খাওয়া বেড়ে যাচ্ছে। তারাও এই ক্ষতিকর বিষয়টিতে অভ্যস্ত হচ্ছে! অথচ একজন পুরুষ ধূমপান করলে যত বেশী ক্ষতি একজন নারী ধূমপান করলে তার চাইতে বেশী ক্ষতি। বিশেষ করে গর্বের সন্তানের জন্য ভয়াবহ রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠে এই ধূমপান। কিন্তু আমরা এগুলো যেন বুঝেও বুঝি না। কি আর বলবো!

এর উপর ছোটদের মাঝেও ধূমপানের অভ্যাস মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে যাচ্ছে। আগে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের লুকিয়ে ধূমপান করতে দেখতাম। এখন চোখের পড়ার মত সংখ্যাক শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখি। এছাড়া কর্মজীবী শিশুদের মাঝে ধূমপানের মাত্রা আরো মারাত্মক। নিউমার্কেট এলাকায় আপনি আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। বিশেষ করে নীলক্ষ্যাতের মোড়ে। নিজ চোখেই দেখতে পাবেন কর্মজীবী শিশুরা কি রকমের ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

এগুলো শুধু বলেই যাই! কোন পরিবর্তন আসে না। কারণ পরিবর্তনটা আসার কথা উপর মহল থেকে। সেই উপর মহলে এখন আয়েশী ভঙ্গিতে ধূমপানে ব্যস্ত। তাই কিছু করতে না পেরে নিজের বুকের কষ্ট নিজের ভিতর রেখেই সেখান থেকে উঠে গেলাম। আর কথা বলতে ইচ্ছে করছিল না।


ইটিভি যখন প্রথমবার চালু হয় তখন এর কয়েকটা অনুষ্ঠান আমি মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। এর মধ্যে বিশ্বের ইতিহাস নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হত। সেখানে শিল্প বিপ্লবের পর নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে দেখানো হয়েছিল। আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে নারীদের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছিল, “নারীরা পুরুষের সমকক্ষ হতে গিয়ে শুধু তাদের ভাল গুণগুলোই নেইনি। তাদের খারাপ গুণগুলোও নিজেদের মাঝে নেওয়া শুরু করে। যেমন ধূমপান, মদ পান ইত্যাদি। পরবর্তীতে নারীদের জন্য এই জিনিষগুলোর ক্ষতির দিক বিবেচনা করে এগুলোর প্রতি তাদের ঝোঁককে অনুৎসাহিত করা হয়।”

যে কারণেই হোক পরবর্তীতে নারীদের সিগারেট খাওয়াটা প্রায় ছিল নাই বলতে গেলে। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক, শিক্ষিত নারীদের যখন সিগারেট খেতে দেখছি তখন কি কষ্ট অনুভব করি তা বলে বুঝাতে পারবো না। এমনিতেই ছেলেদের সিগারেট খেতে মানা করতে করতে ক্লান্ত। তার উপর যখন দেখবো আশে পাশের মেয়েরাও সিগারেট খাচ্ছে তখন সেটাকে আমি কিভাবে নিব ভেবে পাচ্ছিলাম না।

এটাই কি আমাদের মূল্যবোধ! আমরা আধুনিকতার নামে যা করবো তাই কী সঠিক হবে?

Advertisements