১৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ বেশতো ব্লগে প্রথম প্রকাশিত।

ছাত্র রাজনীতি কমছে কম আমার কাছে একটা আতঙ্কই বলতে হবে। বিগত তিন সরকারের সময়ই সরকারী দলের ছাত্র নেতাদের হাতে হেনস্তা হতে হয়েছে। তাদের বিনা কারণে নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর অভ্যাস পথে ঘাটে দেখতে দেখতে বিরক্ত। বাসে থেকে শুরু করে দোকানে সব স্থানেই তাদের সেই ক্ষমতার দাপট দেখাতেই হবে।

আমি নীলক্ষ্যাতের রাফিন প্লাজায় ওরাকল কোচিং এ বিসিএস এর কোচিং করি। সেখনে অফিসের সবার সাথেই আমার কম বেশী ভাল সম্পর্ক রয়েছে। মাঝে মাঝেই তাদের কাছে ছাত্র নেতাদের বিরক্তিকর আবদারের কথা শুনতাম। বিশেষ করে ঢাকা কলেজের ছাত্র নেতাদের অত্যাচারের খবর শুনতে শুনতে আমি নিজেও বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আজকে এই প্রথম এটা নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য! হল।

ঢাকা কলেজের এক ছাত্র নেতা এসে আবদার করছে সে ভর্তি হবে না। কিন্তু তাকে ক্লাশ করতে দিতে হবে! তাকে সব লেকচার শিটও দিতে হবে। এমনকি তার এক পরিচিত এখানে কিছু টাকা বাকী রেখে ভর্তি হয়েছে সে টাকাও নেওয়া যাবে না এবং তাকেও সব সুযোগ সুবিধা দিতে হবে!


আমাদের দেশের ইতিহাস ঘাটলেই নজরে পড়বে প্রতিটি ক্লান্তি লগ্নেই ছাত্ররাজনীতি দেশের হাল ধরেছে। প্রতিবাদে তারাই আগে থেকেছে। প্রতিরোধেও তারা প্রাণ দিতে কুণ্ঠা বোধ করেনি।

কিন্তু আজকে আমাদের এই ছাত্র রাজনীতির একী হাল? কেন ঢাকা কলেজের ছাত্র নেতা বলেই তাকে ফ্রি ভর্তি করাতে হবে? কেন একজন ছাত্র নেতার কাছে বাসের ভাড়া চাওয়া যাবে না? কেন একজন ছাত্র নেতা আমার ভাড়া করা রিকশাতে উঠে গেলেও আমার কিছু বলার অধিকার থাকবে না? কেন আজ শিক্ষার্থীরা কলম আর বই রেখে লাঠি আর অস্ত্র নিয়ে দৌঁড়াচ্ছে? কে দিবে এগুলোর উত্তর?


বলা হয়ে থাকে নদীর জীবনই হল বয়ে চলার মাধ্যে। থেমে গেলে এটা প্রথমে ময়লায় ভর্তি হয়ে যায়। এর পর এটা স্বভাবতই জীবন হারার।

ছাত্র রাজনীতি সহ যে কোন রাজনীতিতেই নেতাদের আগমন অনেকটাই নদীর মত। এখানে নেতৃত্বের প্রবাহ ঠিক রাখতে না পারলে প্রথমে পচবে এবং পরে মরবে।

এই নেতৃত্ব ঠিক রাখার জন্য যে বিষয়গুলো কাজ করে তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আপনাদের নিশ্চয় অজানা নেই যে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হয়ে আছে। বন্ধ হয়ে আছে বৈধ ভাবে নেতৃত্বে আসার পথ। তাইতো মারামারি আর অস্ত্রবাজির মাধ্যমে এখন নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে।

Advertisements