১ অক্টোবর, ২০১৪ বেশতো ব্লগে প্রকাশিত।

ছোট বেলায় আম্মা মাঝে মাঝেই বলতেন, “আমরা কষ্ট করতেছি, তাও তোরা পড়ালেখা কর, মানুষ হ!” এই মানুষ হওয়ার বিষয়টা মাথায় আসত না। মনে হত বড় বড় পাশ দিবো, ভাল চাকুরী পাব, বেতন হবে অনেক। বাস! মানুষ হয়ে গেলাম।

এখন লতিফ সিদ্দিকির মত মানুষগুলোকে দেখে বুঝতে পারি মানুষ হওয়া বিষয়টা আসলে শিক্ষার সাথে যুক্ত না, না যুক্ত ভাল চাকুরীর সাথে। এটার সাথে অদৃশ্য একটা বিষয় জড়িত, ‘বিবেক বোধ’।

পরিবারের কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তা আমাকে অপরকে শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে মানুষকে মানুষ হিসেবে চিন্তা করতে। শিখিয়েছে আমি যেন নিজের মন যা চায় তা না করি। সেটাই করি যা আমাকে ইসলাম করতে বলেছে, সেটা না করি যেটা আমাকে ইসলাম করতে মানা করেছে। এটা আমাকে শিখিয়েছে প্রতিটি মানুষের জীবনেই একটা সীমা আছে। এর বাইরে গিয়ে কিছু করা উচিত না।

আমাদের দেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে তা কোন ধরেনর মূল্যবোধ শিক্ষা দেয় না। শিক্ষা দেয় না মনুষত্য কি। তাই লতিফ সিদ্দিকির মত মানুষগুলো এত কিছু শিক্ষা পাওয়ার পরও, এত উপরে যাওযার পরও নিজেদের মনুষত্য খুঁজে পায়নি। যখন দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপিঠেও শিক্ষকের কাছে ছাত্রী নিরাপদ না তখন বুঝি মানুষ হওয়াটা খুব সহজ না। তাই মানুষ হওয়ার বিষয়টি ছোট বেলায় না বুঝলেও এখন ঠিকই বুঝতে পারি। কারণ লতিফ সিদ্দিকিরা সেটা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়।

বিশ্বাস করুণ আর না করুণ দ্বীন ইসলাম আমাদের এমন একটা জীবন দর্শন দিয়ে গিয়েছে যেটা আমাদের বিবেকের বিচারবুদ্ধিকে সর্বোচ্চ পরিমানে জাগিয়ে তুলতে পারে। আমার সাথে আপনি একমত নাই হতে পারেন। কিন্তু ইতিহাস ঘেটে দেখুন, ইসলাম যেখানে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যে শাসকরা ইসলামকে অনুসরণ করে শাসন করেছে তাদের সময়কালে কতটা শান্তি ছিল আর অন্য মতদর্শগুলো যখন ক্ষমতায় থেকে শাসন করেছে সেগুলো কতটা শান্তিময় ছিল? আশা করি আপনি আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন।

ব্লগটার নাম দিয়েছিলাম, “মানুষ হওয়াটা আসলে কি”। আমি আসলে কোন উত্তর দিতে চাইনি। এটা এখন খুঁজে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।

Advertisements