কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন গেল। ফেসবুক জুড়ে অনেকেই সেই ছবি ভাগ করে নিয়েছে। নিজের পুরনো অনেক স্মৃতিই মনে পড়ে গেল।

নিজের সমাবর্তনের দিন সত্যিই খুব আবেগী হয়ে পড়েছিলাম। আমার কারণটা আর সবার চাইতে ভিন্ন ছিল। আমার মনের মাঝে একটা কথাই উচ্চারিত হচ্ছিল। যেই ছেলেটাকে সাত-নয়টা বিদ্যালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল সে পারবে না বলে আজকে সেই প্রতিবন্ধী ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাবর্তন করছে। সেদিন সত্যিই মনে হচ্ছিল যদি সবগুলো বিদ্যালয়ে গিয়ে গিয়ে বলে আসতে পারতাম আমার গল্পটা।

একেকজনের ছবি দেখছিলাম আর একেক রকমের স্মৃতি মনে পড়ছিল। হঠাৎ করে তাপসীর একটা ছবি দেখে একটু থেমে গেলাম। সমাবর্তনের খুব সাধারণ একটা দৃশ্য। মাঝার টুপিটা উপড়ে ছুড়ে দেওয়ার সাথে সাথে লাফ দিয়ে ছবি তোলা।

এই সাধারণ দৃশ্যে অসাধারণ কিছু নেই। কিন্তু আমার জন্য হঠাৎ করে এটাই অসাধারণ হয়ে উঠল।

হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম আমার এমন কোন ছবি নেই। থাকার কথা না কিংবা চাইলেও এমন ছবি তোলা আমার পক্ষে সম্ভব হত না। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যে কিনা হুইলচেয়ারে বা বসে বসে চলে তার পক্ষে এই ধরণের ছবি তোলাটা অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না।

নিজেকে শান্তনা দেওয়ার জন্য ভাবলাম ব্যাপার না। জীবনে তো কতকিছুই মিস করেছি। তার হিসেব করতে গেলে এখন আর সামনে আগানো সম্ভব হবে না।

এটাও না হয় মিস করে গেলাম।


এটাই আসলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন। এমন অনেক কিছুই আমরা মিস করে যাই যা আপনাদের কাছে খুব সাধারণ। ঐ সাধারণ জিনিসগুলোই  আপনারা অসাধারণ ভাবে উপভোগ করেন। খুঁজে নেন অনাবিল আনন্দ। আর আমরা শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলি আর চিন্তা করি, “ব্যাপার না”।

এর পরও আপনারা নিজেদের অখুশী হবার কারণ খুঁজবেন?

আমার জীবনে আমি বহু মানুষকে নিজের জীবনের ঘটনা উল্লেখ করে উৎসাহ প্রদান করার চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি অনুপ্রেরণা দেওয়ার। প্রথম যে মানুষটার কাছ থেকে আমি অনুপ্রেরণা নিয়েছি সে হল তাপসী বিনতে মাহমুদ চৌধুরী। বয়সে ছোট হলেও এই মানুষটাকে আমি মন থেকে শ্রদ্ধা করি তার লড়াকু মানসিকতার জন্য। মাঝে মাঝে ক্লান্ত বোধ করলে তার কথা চিন্তা করে লড়াই করার অনুপ্রেরণা খুঁজি।

আজকের এই ব্লগটা তাকেই উৎসর্গ করলাম।

Advertisements