তানজি

– সগীর হোসাইন খান।

১০ ভাদ্র, ১৪২২
২৫ আগস্ট, ২০১৫

ডাগর ডাগর চোখে তার হাজার তারার আলো,
চোখ যেন নয়, নয়ন মনি, পুরাই কাজল কালো।
তার চোখের ভাষায় জাদু আছে, কি এক মায়ার টান,
সেই জাদুতে জড়ার মাঝে উছলে উঠে প্রাণ!

ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি, চোখের তারায় দুষ্টুমি,
দুঃখীর মাঝে সুখ বিলাতে যায় করে যায় পাগলামী।
সবাইকে নেয় আপন করে, পর কেউ তো নেইকো তার,
মনটা যেন সাদা কাগজ, নেই তাতে পাপ, অহংকার।

মায়ায় ভরা মুখটা তার, হাজার বছর চেনা,
মুখের মাঝে ঊষার হাসি, সুখের দামে কেনা।
আদর মাখা চাহনিতে তার, মনটা আকুল করে,
ইচ্ছে করে মুখটাকে তার লুকাই বুকের পরে।


পাদটিকা: ২০১৪ সালে এফওএসএস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাংলা হস্তাক্ষর নির্ভর ফন্ট তৈরী করার কাজ হাতে নেই আমরা। সেই সময় অনলাইনে মানুষের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব ছিল আমার উপর। বাংলাদেশের সামাজিক সাইট বেশতো তে এই বিষয়ে পোস্ট করলে বেশতো তৎকালীন সক্রিয় ব্যবহারকারী ফাহীমা আপা তার বান্ধবী তানজিকে হাতের লেখা জমা দেবার জন্য অনুরোধ করে।

ফারহানা জামান তানজি আমার সাথে যোগাযোগ করে একবার হাতের লেখা প্রেরণ করে। কিন্তু ব্যাচারীর দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। আমাদের দায়িত্ববান কুরিয়ারের লোকদের সুবাদে তার হাতের লেখা গিয়ে পড়ে ভুল ঠিকানায়।

এর পর তাকে আরেকবার হাতের লেখা পাঠানোর জন্য অনেক বুঝিয়ে রাজি করি। ৬ মার্চ, ২০১৪ আমি এবং পল্লব স্বশরীরের গিয়ে তার কাছ থেকে হাতের লেখা নিয়ে আসি।

সেই থেকে তার সাথে পরিচয়ের শুরু। এর পর ইমেইলে আড্ডা, হঠাৎ হঠাৎ ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিদিনই ইমেইলে আড্ডা আর প্রতিদিনই ফোনে খোঁজ খবর চলতে থাকে।

আমার জীবনে যত মানুষ এসেছে তাদের মাঝে ফারহানা জামান তানজি ভাল মনের মানুষ হিসেবে সবার উপড়ে থাকবে সন্দেহাতীত ভাবে। নরম মনের এই অসাধারণ মানুষটির একটা ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমার জীবনে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইমেইলে আড্ডা দিতে দিতে একদিন হঠাৎ করেই কবিতাটা লিখে ফেলা। কবিতাটা পড়ে ফারহানা জামান তানজির মন্তব্য ছিল

এহম এহম!!!
কবিতাটা সুন্দর।
কিন্তু ছোটদের কবিতা হয়নি।
শিক্ষাবোর্ড পাঠ্যপুস্তকে এই কবিতা সংযুক্ত করতে রাজি হবে না। :p

আজ আর তার সাথে কথা হয়না। পুরনো স্মৃতিগুলো আর ধূসরতার মাঝে হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু এই কবিতাটা চিরদিনের জন্য সেই ধূসরতার মাঝে উজ্জল হয়ে থাকবে।

Advertisements