আর কিছুক্ষণ পরেই ২০১৬ সাল বিদায় নিবে। কয়েকটাদিন ধরেই ভাবছিলাম সবার উদ্দেশ্যে কিছু লিখে রাখবো! কেন এই সালটা আমার জন্য চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২০১২ সাল থেকেই একটা প্রানান্তর লড়াই চলছে আমার জীবনে। ঐ সালেই স্নাতকোত্তর পাশ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠার করার যুদ্ধে নেমেছি। কিন্তু এখনো এই যুদ্ধে হার ছাা বিজয়ের কোন নিশানাই উড়াতে পারিনি।

সেই তখন থেকেই মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়তে পড়তে চুড়ান্ত রকমের বিরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। ২০১৬ সালে এসে নিজেকে প্রশ্ন করলাম, “আর কতকাল?” প্রশ্নের উত্তরটা নিজেই নিজেকে দিয়েছিলাম। “আর না”

আমি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হতে পারি, কিন্তু অযোগ্য না। আমার নিজের শত শত যোগ্যতা রয়েছে। সেই আত্ম বিশ্বাস নিয়েই ২০১৬ সালে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েছিলাম।

তাই ২০১৬ সালটা আমার ফিরে আসার বছর হিসেবে উজ্জল হয়ে থাকবে।

২০১৬ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে থাকবে ইংরেজির দক্ষতা বৃদ্ধি। আমার প্রথম চাকরীটা গিয়েছিল অনেকটা ইংরেজী না জানার কারণে। প্রকল্প শেষ হলেও তারা আমাকে একটা সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইংরেজিতে অদক্ষতার কারণেই সেই সুযোগটা আমি কাজে লাগাতে পারিনি। এর পর বিসিএস এর ব্যর্থতা আমাকে নতুন করে বুঝিয়ে দিয়েছে আমাকে ইংরেজীর ভিতি দূর করতেই হবে।

সেই গ্লানিকে টেনে নিতে আর মনা চাচ্ছিল না। তাই ইংরেজী ভীতি দূর করার জন্য আমি ২০১৪ সাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছিলাম। ২০১৬ সালে এসে স্পষ্টতই অনুধাবন করতে পেরেছি যে সেই ভীতি আমার অনেকটাই দূর হয়ে গিয়েছে। এখন ইংরেজি পড়তে আর শুনতে ভয় লাগে না। বরং ইংরেজি পড়া আর শোনাকে ব্যাপক ভাবে উপভোগ করতে পারছি।

এই বছরটা হারানোর বছর হিসেবে আমাকে কাঁদাবে। ইমরান ভাই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। নজরুল দেশ ছেড়ে এখন বিদেশে। পিচ্চিটার সাথে আর আগের মত কথা হয় না। একটা দুরুত্ব তৈরী হয়েছে অনেক আগে থেকেই। রিং ভাই এখন নিজের জীবন বাঁচানোের জন্যই দৌড়ে বেড়াচ্ছে। তাপসী সেই কবে থেকেই হারিয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে কাছের মানুষ বলতে যাদের অনুভব করতাম তারা আজ কেউই কাছে নেই।

এই বছর নিজের মাঝে অনেক পরিবর্তন এনেছি। বিগত কয়েক বছর ধরেই নিজেকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় রত আছি। নিজের মাঝে খারাপ খারাপ অভ্যাস, দোষগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো দূর করার চেষ্টা করি। স্বীকার করতেই হবে এই বছর নিজের মাঝে অনেকগুলো দোষকে আমি দূর করতে পেরেছি। নিজেকে ফিরে পেতে মারিয়া হয়ে উঠায় এগুলো সহজে দূর করতে পেরেছি।

হঠাৎ করেই ইসলাম থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। আগের মত কুরআন, হাদীস আর ইসলামী সাহিত্য পড়া হত না। এই বছর নতুন করে এগুলো শুরু করেছি এবং কঠোর ভাবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছি। আশা করি সামনের বছরও সেগুলো চলমান রাখতে পারবো।

নিজের পাঠক মনটা মরে যাচ্ছিল। আগে যেখানে শত শত বই পড়া হত বছরে, সেখানে এখন একটা দুইটা বইও পড়া হয় না। সেই অবস্থান থেকে ফিরে এসে এই বছর আবার পাঠক মনটাকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছি। বেশ কিছু ইতিহাসের বই, গল্পের বই, শিক্ষণীয় বই পড়া হয়েছে।

এই বছর নতুন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মুসলমানের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করার মানুষ খুব কম। নিজেকে সেই অবস্থানে নিয়ে যাবো যে অবস্থান থেকে আমার জাতীকে বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে সহযোগীতা করতে পারবো। এর জন্য নিজের জ্ঞানের পরিধী বাড়ানোর প্রকৃয়া শুরু করেছি অনেক আগে। ইংরেজির দক্ষতা এক্ষেত্রে অনেক কাজে দিচ্ছে। এ বছর অনেকগুলো ইতিহাসের ঘটনা পড়েছি যেগুলো আগে জানা ছিল না। আর সবগুলো প্রবন্ধই ছিল ইংরেজিতে।

শেষ কবে দুই কিংবা আড়াইশ শব্দের ইংরেজী লিখা লিখেছি সেটা মনে করতে পারবো না। এই বছর একহাজার শব্দের বেশ কিছু লিখা লিখেছি। যদিও মানের এবং ভুলের প্রশ্নের এগুলো উৎরে যাবে না, কিন্তু ভুলভাল হলেও বেশ ভাল ভাবেই শুরু করেছি। বুঝতে পারছি চেষ্টা চালিয়ে গেলে আমার পক্ষেও ভাল করাটা কঠিন হবে না।

সব মিলিয়ে এই বছরটা স্মরণীয় বছরই বলতে হবে। ইমরান ভাইয়ের মৃত্যু যেমন কাঁদিয়েছে; ঠিক তেমনই নিজের দক্ষতার বৃদ্ধি নিজের মাঝে সাহস বৃদ্ধি করেছে, সৃষ্টি করেছে নতুন শক্তির।

অনেকতো অন্ধকারে ছিলাম! এবার সাহেব আলোর পথে আসা শুরু করেছি! এখন আর আপনার চোখে সত্যকে দেখবো না! আমি আমার নিজের চোখকে প্রস্ফুটিত করা শুরু করেছি! সাহেব! সাবধানে থাকবেন! দিন যে বদলে যাচ্ছে! এবার সময়টা কিন্তু আমাদের!

Advertisements